‘জনপ্রশাসনে কোনো ফাইল পড়ে থাকবে না’

27

আওয়ামী লীগের তৃতীয় বার সরকার গঠনের পর মন্ত্রণালয়গুলোকেও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন।

এরইমধ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ‘পরিচ্ছন্ন মানুষ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আগামী দিনে এই মন্ত্রণালয়কে বিশ্বমানের জনপ্রশাসন করতে চান তিনি। নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রতিমন্ত্রী কথা বলেন নানা বিষয় নিয়ে। ইঙ্গিত দেন দীর্ঘ দিনের চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের।

বার্তা২৪.কম: জনসেবামুখী জনপ্রশাসন গড়তে আপনার পরিকল্পনা কী?

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন: আমরা বেশকিছু কাজ নিয়ে এগোচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ইশতেহারে যে কথাটি বলেছেন ‘জনসেবামুখী জনপ্রশাসন’ গড়তে হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু কাজ করা প্রয়োজন, যেগুলো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেই কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোও সময়মত শেষ করার ইচ্ছে আছে। জনসেবামুখী জনপ্রশাসন গড়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনকে যথেষ্ট তাগিদ দিচ্ছি। কাজ কর্মে আরো গতিশীল হওয়ার জন্য আরো বেশি সাপোর্ট দিচ্ছি।

বার্তা২৪.কম: দক্ষ কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন: আমাদের অনেকগুলো পরিকল্পনা আছে। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন (পার্সোনাল এভালুয়েশন) বা বার্ষিক কাজের মূল্যায়নের (এপিএ) মাধ্যমে দক্ষ, সৎ ও মেধাবী অফিসার যেন তার মূল্যায়নটি সঠিকভাবে পায়, যে যেরকম পারফরমেন্স করবে সে অনুযায়ী তাদের পুরস্কৃত হবে। বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গতে তুলতে চাই। আমাদের ক্যারিয়ার প্লানিংয়ের কাজটি চলমান আছে, সেটা দ্রুত শেষ করতে চাই। এ দু’টি কাজ হয়ে গেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গতি আরোও অনেক বেড়ে যাবে। আগামীতে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত জনপ্রশাসনের চমৎকার ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা গড়ে উঠবে।

বার্তা২৪.কম: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে একটা ঢালাও অভিযোগ থাকে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে। সেই অভিযোগ দূর করতে পরিকল্পনা কী?

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন: আমরা চাই আমাদের অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষ আসবে তাদের সেবাটা সেখান থেকে নিতে পারবে। সেজন্য আমাদের অফিসারদের সেভাবেই তৈরি করছি। আমরা চাই ধৈর্য্যের সাথে, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে কাঙ্ক্ষিত জনসেবা দিতে পারে। সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন প্রতি সপ্তাহে ‘পাবলিক হেয়ারিং ডে’ চালু করেছি, যাতে মানুষ এসে তাদের সমস্যাগুলো বলবে এবং অফিসাররা দ্রুত সমাধান দিতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের বেশ কিছু অফিসে কাজের ঢিলেমি দেখা যায়। সেটা যাতে না থাকে, কাজের গতি যাতে বৃদ্ধি পায়, সেই চেষ্টা করছি। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সবার জন্য সেবামুখী জনপ্রশাসন করতে পারব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগামী দিনের জন্য বিশ্বেমানের পাবলিক সার্ভিস হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সে ধরনের পরিকল্পনা আছে।

বার্তা২৪.কম: ফাইল আটকে থাকার বিষয়টি সমাধানে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন: ই-ফাইলিং হচ্ছে। আমরা নিজেরাই ই-ফাইলিংয়ে যাচ্ছি। আমাদের সব কাজ ডিজিটালাইজেশনে যাচ্ছে। আমরা খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে চাই। আজকের ফাইল আজকের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কাজ যেন ঝুলে (পেন্ডিং) না থাকে, সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। আমাদের ই-ফাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের প্রত্যেক অফিসে ই-ফাইলিং করেছি, আমরা চাচ্ছি খুব দ্রুত যাতে সেবাটা পৌঁছে দিতে পারি। যাতে কেউ আর বলতে না পারে- জনপ্রশাসনে এসে কাজটা আটকে আছে। আগামীতে ওই অভিযোগ থাকবে না। ইতোমধ্যেই অনেকটা অর্জন হয়েছে। যথেষ্ট একটা ভালো অবস্থায় আছি।

বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন-পুরোটা তুলে ধরা হলো