কিছুই পায়নি রাজীবের পরিবার

22

দুই বাসের মধ্যে ঝুলে থাকা কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের (২১) কাটা হাতটা নাড়া দিয়েছিল বহু মানুষকে। তখন দেশের অনিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আর রাজীব ১৩ দিন হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে যান। তাঁর মৃত্যুর পর নানা জনে নানা আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষতিপূরণের কথাও উঠেছিল। কিন্তু ঘটনার এক বছর পরে রাজীবের স্বজনেরা বলছেন, কোনো আশ্বাসই পূরণ হয়নি, কেউ কথা রাখেনি। আজ ১৬ এপ্রিল রাজীবের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হচ্ছে।

গত বছরের ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একটি দোতলা বাসের পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব। পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটির গায়ে ঘষা দিয়ে পেরিয়ে যায়। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর মাথার সামনের-পেছনের হাড় ভেঙে যাওয়া ছাড়াও মস্তিষ্কে আঘাত লাগে। ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজীব।

রাজীবের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শাহবাগ থানায় মামলা হয়, রাজীবের মৃত্যুর পরে মামলায় ‘অপরাধজনক প্রাণহানি’র অভিযোগ যুক্ত করা হয়। কিন্তু এক বছরেও পুলিশ সে মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ আলী এবং স্বজন পরিবহনের চালক মো. খোরশেদকে গত বছরই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গত এক বছরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলেছে এক দফা, কিন্তু অভিযোগপত্র আর আদালতে জমা পড়েনি। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, দুই বাসের চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া বাস চালিয়ে অপরাধজনক প্রাণহানির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে চলতি মাসে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুই বাসের চালক কারাগারে আছেন। জব্দ করা বাস দুটি শাহবাগ থানার পেছনের ডাম্পিংয়ে রাখা আছে।

রাজীবের মৃত্যুর ঘটনার জন্য হাইকোর্ট রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে। দুই বাস কর্তৃপক্ষ আপিল করলে উচ্চ আদালত মৃত্যুর কারণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেন। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। হাইকোর্টে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার জন্য স্বজন পরিবহনের বেপরোয়া চালনাই দায়ী। হালকা যানের চালককে দিয়ে ডাবল ডেকার চালানোর জন্য বিআরটিসিরও দায় রয়েছে।

ওই কমিটির সদস্য নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ১৫ অক্টোবর তদন্ত কমিটি স্বজন পরিবহনকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিআরটিসির দোতলা বাসটিরও কিছুটা দায় রয়েছে। রাজীবকে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে শমরিতা হাসপাতালের গাফিলতি ছিল।