মুনের কাছে কিমের বিরল চিঠি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট জুন জে-ইনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

24

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট জুন জে-ইনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এটাকে বিরল ব্যক্তিগত চিঠি বলা হচ্ছে গণমাধ্যমে। ওই চিঠিতে কিম আগুয়ান বছরে মুনের সঙ্গে আবার দেখা করার আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

চলতি বছরে এই দুই নেতা তিনবার দেখা করেছেন। চিঠি প্রাপ্তির কথা জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কিম শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে কিম ও মুনের চতুর্থ বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সিউল সফরে না যাওয়ায় চিঠিতে দুঃখ প্রকাশ করেন কিম। তবে অচিরেই সিউল সফরের তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

চিঠি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট মুন তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা পোষণ করে নতুন বছরে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে কিমের আগ্রহে তিনি ‘অত্যন্ত আনন্দিত’। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আন্তরিকতা নিয়ে দেখা করি, যেকোনো কিছু অর্জন করা অসম্ভব নয়। এই জায়গায় পৌঁছাতে অনেক সময় লেগেছে। আর এই এক বছরে বদলে গেছে অনেক কিছু।’ তিনি জানান, নতুন বছরে কিমকে স্বাগত জানাতে তিনিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

দুই কোরিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল ছিল ঐতিহাসিক বছর। ছয় দশকেরও বেশি সময়ের বৈরিতাকে পেছনে ফেলে এ বছরের ২৭ এপ্রিলে দুই কোরিয়ার অসামরিকায়িত অঞ্চলের পানমুনজম গ্রামে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন কিম ও মুন। আর এর মধ্য দিয়েই ৬৫ বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার প্রথম কোনো রাষ্ট্রনায়ক দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা রাখেন। দুই নেতা যৌথ ঘোষণায় ১৯৫০ সালে শুরু হওয়া কোরীয় যুদ্ধের ইতি টানেন। তবে এখনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ২৬ মে পানমুনজমে দ্বিতীয় বৈঠকে বসেন দুই নেতা। আর তৃতীয় বৈঠকটি ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে হয়। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার আরেকটি বড় বিষয় হলো—পরস্পরের প্রতি হুমকি-ধমকি আর কথার লড়াই বন্ধ করে গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন।