সিলেটের অপেক্ষায় থাকল বাংলাদেশ

আওয়াজ উঠল, দ্বিতীয় ম্যাচেই কি সিরিজ নির্ধারণ হয়ে যাবে?

15

সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই সবার কণ্ঠে এক প্রশ্ন, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করবে বাংলাদেশ? বিনয়ের সঙ্গে এ প্রশ্নের উত্তরে ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ এগোনোর কথা বলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ম্যাচ শেষ হতে না হতেই আবার আওয়াজ উঠল, দ্বিতীয় ম্যাচেই কি সিরিজ নির্ধারণ হয়ে যাবে? সিলেটের শেষ ওয়ানডে তখন পরিণত হবে ‘ডেড রাবারে’। ধবলধোলাই হবে কি হবে না, এ নিয়ে প্রশ্ন থাকবে কিন্তু সিরিজের ফলে এর কোনো প্রভাব থাকবে না। মিরপুরের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে এমন সব প্রশ্নই এখন হাস্যকর ঠেকছে। শাই হোপের ১৪৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সিরিজের মীমাংসা এখন হবে শুক্রবারে, সিলেটের ছবির মতো মাঠে।

বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ ২ ওভারে মাত্র ৫ রান তুলেছিলেন মাশরাফি ও মিরাজ। মাত্র ২ বল থাকতে ম্যাচ মীমাংসা হওয়ায় এখন সে দুই ওভারকেই ম্যাচ নির্ধারণী বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পেছনে হোপের ইনিংসটির মতোই ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের মাখনগলা হাত। উইকেটের পেছনে ক্যাচ হাতছাড়া করার কথা এখন আর হাইলাইটসেও জায়গা পায় না। কিন্তু উইকেটের সামনেও অন্য ফিল্ডাররাও ক্যাচ ফেলেছেন অম্লান বদনে। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়েও ছিল গা ছাড়া ভাব। সিলেটেও এমন কিছু হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে সিরিজ জয়ের আনন্দটা দেশের মাটিতে হারের দুঃখে রূপ নেবে।

শেষ ১০ ওভারে ম্যাচটা জমে উঠল হঠাৎ। মিডল অর্ডারের অন্যরা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন কিমো পল (৩১ বলে ১৮ রান)। হোপের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন এই পেসার। ৪ উইকেট নিয়েই ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখতে লাগল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ ওভারে ২৯ রান তুলে জমজমাট এক ম্যাচের রেসিপি প্রস্তুত হয়ে গেল। এরপরই সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের আবির্ভাব। টানা দুই ওভারে মাত্র ৩ রান করে ওঠায় লক্ষ্যটা ৩ ওভারে ৩২-এ এসে দাঁড়াল। ৪৮তম ওভারে রুবেলের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে গতি বদলালেন হোপ, সে ওভারে এল ১০ রান। পরের ওভারে মোস্তাফিজের শেষ ৪ বলে ৩টি চার মেরে ম্যাচের ফল নিয়ে সব সন্দেহই উড়িয়ে দিলেন হোপ। মোস্তাফিজের শেষ ওভারে এল ১৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ৬ বলে ৬ রান।

মাহমুদউল্লাহর প্রথম বলে এল দুই রান। পরের বলে এল এক রান। পরের বলে এল এক রান। পরের বলে লেগ সাইডে বল ঠেলে দিয়ে দুই রান নিয়ে নিলেন পল। ২ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২৫৫ রান করার পর স্বাগতিক দলকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০০ করতে না পারার ব্যর্থতা এর একটি কারণ, বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত ফর্মও আরেকটি কারণ। তবে সিরিজের আগে মিরপুরের উইকেটে জয়ের জন্য আড়াই শ পার করা স্কোরই যথেষ্ট। মাত্র দ্বিতীয় ওভারেই হেমরাজকে এলবিডব্লু  করে মেহেদী হাসান মিরাজ সে ইঙ্গিতই দিলেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো হুড়মুড় করে আজ আর ভেঙে পড়েনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একপ্রান্তে স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাট করেছেন শাই হোপ। অন্যপ্রান্তে ড্যারেন ব্রাভো কিংবা মারলন স্যামুয়েলসরা কচ্ছপগতিতে রান তুললেও অন্তত প্রয়োজনীয় সঙ্গ দিতে পেরেছেন। ওতেই ৩০ ওভার পেরোনোর আগেই ১৩০ পেরিয়েছে উইন্ডিজ।

এরপর ২৫ রানের মধ্যে দ্রুত তিন উইকেট তুলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু হোপকেই আউট করা যাচ্ছিল না। সেই হোপই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিরিজ মীমাংসার আশা শেষ করে দিলেন।