সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক গোলাম দস্তগীর গাজী, সবচেয়ে কম অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন
৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক গোলাম দস্তগীর গাজী, সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক মেহেরপুর-১ আসনের সাংসদ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন
১৪২

মেহেরপুর টুডে ডেক্স :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সাংসদ এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় সুযোগ পেয়েছেন। মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক মেহেরপুর-১ আসনের সাংসদ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন।

এবারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজন এইচএসসি পাস। বাকি সবাই কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রিধারী। একাদশ সংসদের হলফনামা বিশ্নেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থান পাওয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর তথ্য পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রীদের হলফনামা বিশ্নেষণে দেখা গেছে, পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন তিনজন, আটজন এমএ/ এমএসএস/ এমএসসি পাস, ১৭ জন বিএ/ বিএসএস/ বিকম/ বিএসসি পাস, এলএলবি বা ব্যারিস্টার অ্যাট ল রয়েছেন আটজন, এমবিবিএস দু’জন, বিবিএ/ এমবিএ রয়েছেন তিনজন, সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) রয়েছেন একজন। বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

হলফনামায় আরও দেখা গেছে, মন্ত্রীরা ছয়জন নিজেদের পেশা রাজনীতি বা সমাজসেবা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২১ জন নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী, সাতজন আইনজীবী, দু’জন চিকিৎসক, পাঁচজনের পেশা কৃষি ও মাছ চাষ, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বেসরকারি চাকরিজীবী একজন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক :মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক পোলট্রি ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কৃষি খাতে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া থেকে ৩৬ হাজার, ব্যাংক সুদ পান ২৬ হাজার এবং পারিতোষিক ও ভাতাদি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৮০ টাকা। তিনি মৎস্য ব্যবসায়ে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলেও এ খাত থেকে কোনো আয় দেখাননি।

মন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩১ টাকা, ব্যাংকে জমা ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩, স্ত্রীর নামে ব্যাংকে সাত লাখ ৩৬ হাজার ৯০৪ টাকা। তার তিনটি গাড়ির অর্জনকালীন মূল্য এক কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া নিজ নামে ১০ তোলা ও স্ত্রীর নামে ১২ তোলা সোনা, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে এক হাজার ৫৬৮ বর্গফুটের দোতলা দালানের অর্জনকালীন মূল্য ৪০ হাজার টাকা ও ৯৬০ বর্গফুটের আধাপাকা টিনশেড বাড়ির মূল্য দেড় লাখ টাকা। নিজ নামে প্রায় ২০ বিঘা ও স্ত্রীর নামে ৩৫ শতক কৃষি জমি এবং ১৪ শতক অকৃষি জমি রয়েছে তাদের। এর অর্জনকালীন মূল্য জানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক :কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক নিজের পেশার ঘরে লিখেছেন ‘অবসরপ্রাপ্ত চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার (প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা), কৃষি গবেষণা কাউন্সিল’। বাড়িভাড়া থেকে বছরে তিনি নিজে আয় করেন চার লাখ ৩২ হাজার ২২৮ টাকা। স্ত্রীর আয় এক লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের সুদ থেকে আয় দুই লাখ ৩৬ হাজার ১৭ টাকা। স্ত্রীর চাকরির বেতন-ভাতা থেকে আয় নয় লাখ দুই হাজার ৮১০ টাকা। নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা, সংসদ সদস্য হিসেবে অন্যান্য করমুক্ত আয় ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৫ টাকা। মৎস্য চাষ থেকে তার আয় চার লাখ ৬২ হাজার ৩২০ টাকা।

নিজের নগদ টাকা নেই তার, তবে স্ত্রীর রয়েছে ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। মন্ত্রীর ব্যাংকে জমা ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ২০ টাকা; স্ত্রীর নামে আছে ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইউনিভার্সাল পোলট্রি হ্যাচারির ২০ ভাগ শেয়ারের অর্জনকালীন (২০০৮ সালের ২২ এপ্রিল) মূল্য নয় লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩০ টাকা মূল্যের তার একটি গাড়ি, দেড় লাখ টাকা মূল্যের আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী, নিজ নামে দুই তোলা সোনা এবং স্ত্রীর নামে পাঁচ তোলা সোনা রয়েছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ৫০ শতাংশ কৃষি জমি এবং আট কাঠা অকৃষি জমি, গাজীপুরের টঙ্গীতে পাঁচ কাঠা, পৈতৃক সূত্রে রাজধানীর গোড়ানে দশমিক ০৮৯ শতাংশ এবং সাভারে ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার পাওয়া পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে ২০ শতাংশ জমিতে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের দোতলা বাড়ির দুই ভাগের এক ভাগের মালিক তিনি। এ ছাড়া ঢাকার গোড়ানের জমির ওপরে তিনটি ফ্ল্যাট এবং ঝিলমিল প্রকল্পে রাজউককে অগ্রিম দিয়েছেন ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা। এই সম্পত্তিরও তিনি অর্ধেকের মালিক। মিরপুরের সেনপাড়ায় ১১ সেকশনে পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় চারটি ফ্ল্যাট ও পাঁচতলায় চার ভাগের এক ভাগের মালিক তিনি। মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটে লালমাটিয়ায় দুই হাজার ১৫২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের অর্ধেকের মালিক তিনি।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ :তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নিজের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষকতা, ব্যবসা ও সংসদ সদস্য। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩১০ শতাংশ দান হিসেবে পাওয়া কৃষি জমি, খুলশী মৌজায় ছয় কাঠা অকৃষি জমি (যার অর্জনকালীন মূল্য ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা), পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাকলিয়া মৌজায় দুই কাঠা জমির চার ভাগের একাংশ (বর্তমানে দালান নির্মাণের জন্য হস্তান্তরিত), সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির ওপর দালান (দানপত্র সূত্রে প্রাপ্ত এবং ডেভেলপারের কাছে হস্তান্তরিত) এবং পিংক সিটিতে একটি ডুপ্লেক্স ঘর রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে নিজে বাড়িভাড়া পান এক লাখ ৮০ হাজার টাকা, স্ত্রী পান এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা। নিজের ব্যবসায় আয় নেই; স্ত্রীর আয় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানতে নিজের আয় ৩৫৮ টাকা এবং স্ত্রীর দুই লাখ ৬০ হাজার ২২৫ টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ভাতা পান ২৪ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের হাতে আছে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও স্ত্রীর হাতে ৩০ হাজার টাকা। ব্যাংকে নিজ নামে জমা সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। নিজ নামে শেয়ার ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে নয় লাখ ৬০ হাজার টাকার এবং নির্ভরশীলদের নামে তিন লাখ ২০ হাজার টাকার। ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪২ টাকা মূল্যের একটি জিপগাড়ি এবং স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার রয়েছে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর :বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর আসবাব, স্বর্ণালঙ্কার, গাড়ি, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, নগদ টাকা ও ব্যাংক আমানতের বাইরে অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য ৬৯৬ কোটি সাত লাখ ৬৪ হাজার ৮৫৩ টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি।

ব্যবসায় থেকে তার বছরে আয় ৩৪ কোটি ৭১ লাখ নয় হাজার ৫৩৭ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ভাড়া বাবদ হলফনামায় আয় দেখিয়েছেন দুই লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংকের আমানত থেকে আয় দুই কোটি ৫১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৮ টাকা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ও বোর্ড মিটিং ফি বাবদ আয় ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৭১৫ টাকা।

তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজের হাতে নগদ টাকা আট কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা, স্ত্রীর হাতে নগদ ১২ লাখ ২৮ হাজার ২৯৬ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা তিন লাখ ১৯ হাজার ৫২২ টাকা, স্ত্রীর নামে জমা ৯৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৮ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার বাবদ (অর্জনকালীন মূল্যসহ) নিজের অর্থ ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩১৯ টাকা এবং স্ত্রীর অর্থ ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৪২ হাজার ১০৮ টাকা।

গোলাম দস্তগীর গাজীর নিজের ব্যবহার করা মোটরযানের মূল্য ১ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। নিজের কাছে থাকা স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অলঙ্কারের (অর্জনকালীন মূল্যসহ) মূল্য ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে থাকা অলঙ্কারের মূল্য ২৪ হাজার টাকা। নিজের কাছে থাকা ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে থাকা ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর মূল্য ৩ লাখ টাকা। নিজের কাছে থাকা আসবাবপত্রের মূল্য ১৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে থাকা আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৬৯৬ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫৩ টাকা।

নিজের নামে থাকা অকৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ৫৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে থাকা অকৃষি জমির মূল্য ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৮০ টাকা। হলফনামায় বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টের ঘরে নিজের নামের জায়গাটি খালি রয়েছে। স্ত্রীর নামে থাকা বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার ১১ টাকা। ব্যাংকে তার একক ঋণ ৫৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৬ টাকা।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম :শ. ম. রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস, এলএলবি। হলফনামার বিবরণী অনুযায়ী আইন পেশা বাবদ বছরে তার আয় ৬০ লাখ ২৪ হাজার ১০৩ টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা, তার নির্ভরশীলদের ব্যবসা থেকে আয় ৯ লাখ ২ হাজার টাকা, নিজের নামে থাকা শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ১ লাখ ১৮ হাজার ৬১০ টাকা। এর বাইরে মৎস্য খামার থেকে আয় ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের হাতে নগদ অর্থ ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৪ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে নগদ ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৫০ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমাকৃত অর্থ ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে নিজের বিনিয়োগ ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১০ টাকা এবং স্ত্রীর বিনিয়োগ ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১০ টাকা। নিজের মালিকানায় থাকা মোটরযানের মূল্য (অর্জনকালীন মূল্যসহ) ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নিজের কাছে থাকা ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে থাকা ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। নিজের কাছে থাকা আসবাবপত্রের মূল্য ৪৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর আসবাবপত্রের মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। নিজের ও স্ত্রীর কাছে থাকা অলঙ্কারের মূল্য জানা নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। নিজের অন্যান্য ব্যবসা ও পেশাগত মূলধনের পরিমাণ ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং এ বাবদ স্ত্রীর অর্থের পরিমাণ ২০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া নিজের নামে থাকা অকৃষি জমির মূল্য ২ কোটি ২৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে থাকা অকৃষি জমির মূল্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে তার কোনো ঋণ বা দায় নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন :পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি। হলফনামার বিবরণী অনুযায়ী শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশা থেকে তার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২৭ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয়ের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৮৩৩ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য আয়ের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ অর্থ ১ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭১০ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা আছে আরও ১ হাজার ৯৪৬ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৮ টাকা। নিজের কাছে থাকা বন্ড, ঋণপত্র এবং তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ১০ লাখ টাকা এবং পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেট এবং সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ টাকা। নিজের ব্যবহূত মোটরযানের মূল্য ২০ লাখ টাকা। তার নিজের কোনো অলঙ্কার নেই। স্ত্রীর কাছে থাকা অলঙ্কারের আর্থিক মূল্য ৫ লাখ টাকা। নিজের ব্যবহূত ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৫ লাখ টাকা। আসবাবপত্রের ঘরে নিচের অংশটি ফাঁকা রয়েছে। তবে স্ত্রীর কাছে থাকা আসবাবপত্রের মূল্য ৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার অন্যান্য আয়ের পরিমাণ ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৩ টাকা। ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ঋণ বা দেনা নেই।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি :হলফনামার বিবরণী অনুযায়ী চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী এবং রাজনীতিক হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বার্ষিক আয় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ভাতা পান ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ আছে ১২ লাখ টাকা। নিজের কাছে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ৩ হাজার ৭০০ ডলার ও ২৫ পাউন্ড এবং স্বামীর হাতে ৫ হাজার মার্কিন ডলার। নিজের নামে ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ৮ লাখ এবং স্বামীর নামে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। নিজের নামে বন্ড, ঋণপত্র কিংবা শেয়ার নেই। স্বামীর নামে বেনোভোলেন্ট ফান্ডে রয়েছে ৪০ লাখ টাকা। দীপু মনির পোস্টাল, সেভিংস ও সঞ্চয়পত্র বাবদ ৭০ লাখ টাকা রয়েছে। ব্যবহূত গাড়ির মূল্য সাড়ে ৪৬ লাখ এবং ৯ লাখ টাকার অলঙ্কার রয়েছে। আইন পেশা থেকে স্বামীর আয় ৪০ লাখ টাকা। দীপু মনির নামে অকৃষি জমি ১০ কাঠা, যার আর্থিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। নিজের দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩৫ লাখ এবং স্বামীর নামে দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন :বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন হলফনামায় আয় দেখিয়েছেন কৃষি খাতে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। নির্ভরশীলদের অন্যান্য খাত থেকে আয় ৫ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ২২ লাখ ৭১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা ৯৯ হাজার টাকা। তার নিজের কিংবা স্ত্রীর নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র, শেয়ার কিংবা সঞ্চয়পত্র নেই। তার ব্যবহূত মোটরযানের (টয়োটা জিপ) আর্থিক মূল্য ৭৪ লাখ টাকা। তার নিজের অলঙ্কার নেই, স্ত্রীর কাছে থাকা অলঙ্কারের আর্থিক মূল্য ২০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে একটিমাত্র টিভি সেটের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি, যার আর্থিক মূল্য ২০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর কাছে থাকা আসবাবপত্রের আর্থিক মূল্য দেখিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা, যা তিনি বিয়ের সময় পেয়েছেন। অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে তার কাছে একটি পিস্তল এবং একটি একনলা বন্দুক থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। যেগুলোর মূল্য উল্লেখ করেছেন যথাক্রমে ৪০ হাজার ৪৬০ এবং ৭ হাজার টাকা।

তার নিজের নামে থাকা পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে থাকা মোট কৃষি জমির আর্থিক মূল্য উল্লেখ করেছেন ১ লাখ টাকা। ঢাকার উত্তরায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার, যার আর্থিক মূল্য ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। একটি যৌথ বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন এবং যৌথ মালিকানার ৮ ভাগের এক ভাগের মালিকানার আর্থিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন :রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন আইন পেশা থেকে বছরে আয় করেন ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাবদ পান ২৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া মৎস্য চাষ থেকে বছরে ৩০ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ টাকা এবং কৃষি খাতে বছরে তার আয় এক লাখ ৬১ হাজার টাকা। তিন লাখ ৩০ হাজার ৪৫১ টাকা মূল্যের তার শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ১২০ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৯ টাকা, ২৫ ভরি স্বর্ণ, একটি মাইক্রোবাস ও একটি ল্যান্ডক্রুজার রয়েছে তার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে ২৫ বিঘা জমি, বাড্ডায় ৫ কাঠার একটি প্লট, উত্তরায় ৫ কাঠার একটি প্লট, রামপুরা বনশ্রীতে ১১০০ বর্গফুটের দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট এবং ১৮০০ স্কয়ার ফুটের আড়াইতলা একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। যদিও তা কোথায় তা উল্লেখ নেই।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল : নবনিযুক্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের বার্ষিক আয় এক কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ভোটে প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তিনি ৩ কোটি ৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক। এর মধ্যে তার ব্যবহূত দুই গাড়ির দাম যথাক্রমে দুই কোটি ও ৬৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা। গাজীপুর-২ আসনের এ এমপির নগদ রয়েছে ১২ লাখ টাকার ওপরে। ব্যাংকে রয়েছে ১৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা। শেয়ার আছে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার। ব্যবসা থেকে তিনি আয় করেন বছরে ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম :নবনিযুক্ত ১৯ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি ৬৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক। তার হাতে নগদ রয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানিতে তার শেয়ার রয়েছে ৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকার ওপরে। বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে ৪ কোটি ৫২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তার ছেলের নামে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার শেয়ার।

শাহরিয়ার আলমের বার্ষিক প্রায় তিন কোটি টাকা। আয়ের বড় অংশ আসে শেয়ারের লভ্যাংশ থেকে। তিনি এ খাত থেকে আয় করেছেন দুই কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পেশা ব্যবসা হলেও, এ থেকে তার আয় নেই।

ঢাকার গুলশানে রয়েছে শাহরিয়ার আলমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ও রাজশাহীর আড়ানিতে বাড়ি, দাম ১ কোটি ৭৫ হাজার টাকা। গৃহনির্মাণে ডিবিএইচ থেকে ঋণ নিয়েছেন ৫৭ লাখ ৭৯৪ টাকা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন :মেহেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি ফরহাদ হোসেনের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তিনি পেশায় কৃষিজীবী। কৃষি খাত থেকে বছরে তার আয় চার লাখ টাকা। ১৫ হাজার টাকা আয় করেন শেয়ার, সঞ্চয়পত্র থেকে। অন্যান্য খাত থেকে তার আয় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ব্যাংকে কোনো টাকা জমা নেই। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে ১৫ হাজার টাকা আয়ের কথা বলা হলেও হলফনামায় এ খাতে তার বিনিয়োগের কোনো তথ্য নেই। তিনি ব্যবহার করেন ৭৩ লাখ টাকার জিপ গাড়ি। তার স্থাবর সম্পত্তি বলতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৫১ শতাংশ অকৃষি জমি ও একটি পাকা বাড়ি।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী :নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর প্রায় অর্ধেকই তার গাড়ির দাম। তার ৭৫ লাখ টাকা দামের একটি গাড়ি রয়েছে। নগদ রয়েছে ৮০ লাখ ১৯ হাজার টাকা। শেয়ার, বন্ড, ঋণপত্র রয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকার। দিনাজপুর-২ আসনে টানা তিনবারের এ এমপির নিজ নামে কোনো জমি, ঘরবাড়ি নেই। যৌথ মালিকানায় আট দশমিক ২৫ একর কৃষি জমির মালিক তিনি। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল চৌধুরী নওফেল :নতুন মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নিজ নামে জমি, বাড়ি নেই; নেই কোনো স্থাবর সম্পদ। তবে অস্থাবর সম্পত্তিতে কোটিপতি চট্টগ্রাম-৯ আসনের এই এমপি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পেশায় আইনজীবী। স্থাবর সম্পদ না থাকলেও তার বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ এবং ব্যাংক সুদ থেকে তিনি বছরে আয় করেন ৩৭ লাখ টাকা। আইন পেশা থেকে আসে ৭ লাখ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে তার আয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমাকৃত টাকার পরিমাণ ৭৭ লাখ ৫৫ হাজার। শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ টাকার। স্থায়ী আমানত ৩৭ লাখ টাকার। (সূত্রঃ samakal.com)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More