শুভ জন্মদিন যমুনা টেলিভিশন
গণমাধ্যমকর্মীদের আবেগ আছে আর দশটা মানুষের মতোই। যমুনার জন্মদিন আমাদের কাছে তাই আবেগের, ভালোবাসার একটি দিন।
৫৯

মুরশিদুজ্জামান হিমু:

তীব্র শীতেও কেমন যেন ঘন-কালো হয়ে আছে ইউরোপের আকাশ। আমেরিকারও। সেই মেঘ থেকে আকাশের অশ্রুও ঝরছে। কিন্তু দেখছে না কেউ। আমাদের দক্ষিণ-এশিয়াকেও কেমন যেন চোখ রাঙাচ্ছে ভয়াল কিছু। সবই এখন সতর্কতা আর সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দেয়া। পৃথিবীব্যাপী প্রতিদিন লাশের মিছিল দেখছি। রাতে দেখে ঘুমালাম করোনায় মারা গেছে ৪০ হাজার। ঘুম থেকে উঠেই তা হয়ে যাচ্ছে ৪৫। আসলেই তো, এতো লাশ কীভাবে বইছে পৃথিবী? চারদিকের বাতাসে শুধু লাশের গন্ধ।

সংকটকাল নিঃসন্দেহে। কিন্তু সময়কে তো আর থামিয়ে রাখা যায় না। ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরতে ঘুরতে আবারও চলে এসেছে প্রিয় কর্মস্থল যমুনা টেলিভিশনের জন্মদিন। তাই, বলে নিচ্ছি, ‘শুভ জন্মদিন যমুনা টেলিভিশন’।

আমরা জানি, একজন সংবাদকর্মীকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্ত হতে হয়। এমন শঙ্কার মাঝেই প্রতিদিন যমুনার কর্মীরাও কাজ করছেন। খবর পৌঁছে দিচ্ছেন সবার কাছে। দুশ্চিন্তা নিয়ে সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ, টেলিভিশন তো আর বন্ধ হয় না। আর এমন কঠিন পরিস্থিতিতে একজন সংবাদকর্মীকে কাজ করতে হবে, তা জেনেই তো সবাই এ পেশায় এসেছেন। এতকিছুর মাঝেও সবার মনোবল অটুট। কারণ, আমরা টিম যমুনা। সবাইকে জানিয়ে রাখা ভালো, কঠিন এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সাথে সাথেই যমুনা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। রিপোর্টারদের অ্যাসাইনমেন্ট কমিয়ে দেয়া হয়েছে একেবারেই। খুব প্রয়োজন ছাড়া তারা বাইরে যাচ্ছেন না অফিসের কাজে। পুরো অফিসকে দুটি টিমে ভাগ করা হয়েছে। একটি টিম একদিন অফিস করে ছুটি পাচ্ছেন পরদিন। প্রতিটি কর্মীকে বাসা থেকে আনা-নেয়া করছে অফিসের গাড়ি। অফিসে ঢোকার মুখেই আছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। নিউজরুমের সামনেও দেয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অফিস থেকে দেয়া হচ্ছে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস। অফিসের কম্পিউটারের কিবোর্ড-মাউস সার্বক্ষণিক পরিষ্কার করা হচ্ছে জীবাণুনাশক দিয়ে। অফিস এগুলো করছে তাদের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের স্বার্থে। এগুলোতেই তো মানসিক প্রশান্তি।

এটাই তো আসল যমুনা টেলিভিশন। কারও আকাশে ঘনকালো মেঘ এলেই আরও দশজন নিজের ঝুলির বাতাস দিয়ে সে মেঘ উড়িয়ে দেন। সহকর্মীর পাশে এসে দাঁড়ানোর উদাহরণ যমুনায় তো ভুরি ভুরি। আর অফিস নিয়ে গল্পের ভাণ্ডার খুলে বসছে তো রাত-দিন একাকার হয়ে যাবে। তাই সেদিকে যাচ্ছি না।

গণমাধ্যমকর্মীদের আবেগ আছে আর দশটা মানুষের মতোই। যমুনার জন্মদিন আমাদের কাছে তাই আবেগের, ভালোবাসার একটি দিন। কারণ, যমুনা এগুলেই তো আমরা আগাই। যমুনা কোন লক্ষ্য ছুঁলেই তো আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাই। এ এক অন্তরাত্মার বাঁধন। যা ভাষায় প্রকাশ করলে অনেক কিছুই না বলা থেকে যায়।

যমুনার জন্মদিনের এই শুভক্ষণে একটাই প্রত্যাশা, পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসুক। যে কঠিন সময় পার করছি আমরা, তা একটি ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে যাক। মাঝে মাঝে আকাশে তো মেঘ দেখা দেবেই। কিন্তু পরক্ষণেই তো সূর্য ওঠে। শুধু চাওয়া, সে অপেক্ষা যেন দীর্ঘ না হয়।

লেখক: সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, যমুনা টেলিভিশন।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More