মেহেরপুরে করোনা ভাইরাস সতর্কতায় উদাসিন মানুষ
গত ২ সপ্তাহ আগে জোরে সরে চলে প্রচার-প্রচারণা, কিন্তু এখন শহর ও গ্রাম পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে ঢিমেতালে
১৬১

জাকির হোসেন, মেহেরপুর :  মেহেরপুরে শহরে সাধারন মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলেও গ্রাম পর্যয়ে নেই তেমন সচেতনতা । সরকারের পক্ষ থেকে হোম কোরাইনটিনের কথা বলা হলেও গ্রামের মানুষেরা তা না মেনে ঘোরাফেরা, বাড়ির কাজ করে দিব্যি সময় পার করছেন।
করোনা ভাইরাস সতর্কতায় মেহেরপুরে বন্ধ রয়েছে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, গণপরিবহন। জনসচেতনতা বাড়াতে শহরে গত ২ সপ্তাহ আগে জোরে সরে চলে প্রচার-প্রচারণা, কিন্তু এখন শহর ও গ্রাম পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে ঢিমেতালে। দিনের বেলায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলে সাধারন মানুষের মাঝে কিছুটা সচেতনতা লক্ষ করা গেলেও বিকেল থেকে সন্ধা নামার পরের চিত্রটি অন্য রকম। সন্ধা নামার পর পরই চায়ের দেকান ও পাড়ার মোড়ে মোড়ে জটলা বাধতে শুরু করে। গ্রামের অবস্থাও সেই একই রকম। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নেই কোন তৎপরতা। যত্রতত্র চায়ের দোকানে বসে আড্ডা, রাস্তায় ঘোরাঘুরি আবার অনেককেই রাস্তার ধারে জনসমাগম করে দলবেঁধে খেলা খেলতেও দেখা যায়। সচেতন মানুষ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্টির এক শ্রেণীর এমন উদাসিনতা ভাবিয়ে তুলেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল বুধবার মেহেরপুরে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। আক্রান্ত ব্যাক্তির বাড়ি মুজিবনগর উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে। সে ব্রাক এনজিও মুজিবনগর উপজেলা অফিসে কর্মরত আছে বলে জানা যায়।
এদিকে একই উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইদ্রিস আলী নামের এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই রোগীর পজেটিভ রিপোর্ট আসে বলে জানায় জেলা সিভিল সার্জন। বুধবার করোনা ভাইরাস সন্দেহে তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শরীরে জ্বর ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে বুধবার সকালে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যাক্তির বাড়ি মুজিবনগরের ভবের পাড়া গ্রামে। করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর লাশের দাফন কাজে অংশ নেওয়া মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুজিবনগর থানার ওসি ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার ও নার্সদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানিয়েছে, যারা হোম কোয়ারাইন্টিনে রয়েছে তাদের কোয়ারাইন্টিন শেষের দিকে। এখন পর্যন্ত তাদের শরীরে কোন লক্ষন না দেখা দেওয়ায় তারা সবাই সুস্থ আছেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুন: পরীক্ষার জন্য পাঠানো ১৯ জনের মধ্যে মুজিবনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সহ ১৮ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেও মেহেরপুর সদর উপজেলার একজনের করোনা ভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন  ।করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ওই রোগীর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।

মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাড়ীবাকা গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন জানান, সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ হিসেবে তারা অনেকটাই উদাসিন তার কারন তারা অনেকে অল্প শিক্ষিত এবং বেশিরভাগই কৃষি ক্ষেতে কাজ করে। দেশে এতো কঠোর অবস্থার পরও যে যার মতো ঘোরাফেরা করছে এতে করে আরো ভয় ও আতঙ্ক বাড়ছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের ফজেল আলীসহ আরো অনেকে জানান, গ্রামের মানুষের মাঝে যারা একটু সচেতন তারা ছাড়া কেউই তেমন একটা নিয়ম মানছে না। যে যার মতো ঘোরাঘুরি করছে পাড়ায় মহল্লায়। কিছু দিন আগেও প্রশাসনের কঠোরতা ছিল ভালো। শহর সহ গ্রামে গ্রামে তারা মানুষদের সচেতন করেছে ব্যপকহারে কিন্তু কয়েকদিন হলো তাদের তেমন একটা তৎপরতা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না এ কারনে আরো মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছে যত্রতত্র।
বিভন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, জেনে শুনে বুঝেই গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারন মানুষেরা নিয়ম মানছে না। তাদের মধ্যে এখনো কুসংস্কার কাজ করছে। তবে এই কুসংস্কার থেকে বের হয়ে এসে সবাইকে এক হয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার কথাও তারা বলেন।
মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গণি বলেন, সন্ধা হওয়ার পরপরই সীমান্তবর্তী গ্রামঅঞ্চলের মানুষেরা ভিড় জমায় পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে, আড্ডা জমায় চায়ের দোকানে, এনিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। জনসমাগম আর আড্ডা বন্ধ করার জন্য চায়ের দোকান থেকে টিভি, বসার বেঞ্চ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এছাড়া ক্যারামবোর্ড ভেঙে দেওয়া সহ, জরিমানাও করা হয়েছে। সাধারন মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডাঃ নাসির উদ্দীন জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে কাজ করা হচ্ছে, প্রতিদিন করোনা সন্দেহে যেসব নমুনা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গণি জানান, করোনা মোকাবেলায় আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি, পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও জন সাধারনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ অব্যহত রয়েছে। এরই মধ্যে সরকার অসহায়-দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন শুরু করেছে এবং তা অব্যহত থাকবে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More