মেহেরপুরে আরো একজনের করোনায় মৃত্যু; দাফন কার্যে ছুটে এলেন তাক্ওয়া ফাউন্ডেশন
১৫৩

ইসমাইল হোসেন, মেহেরপুর : মেহেরপুর সদর উপজেলা বামান পাড়া নামক স্থানে আজ সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তার জানাযা ও দাফন কার্য করার জন্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে খবর পেয়ে মোটরসাইকেল যোগে ছুটে আসে পার্শবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা থেকে তাক্ওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। এনিয়ে মেহেরপুর জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো ৯ জনের।

জানা গেছে, ইউসুফ আলী শেখ মেহেরপুর সদর উপজেলা বামন পাড়ার মৃত নজরুল আলীর ছেলে। তার চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলাম মেহেরপুর টুডে কে বলেন গত ১৭ই জুলাই শুক্রবার রাত দশটার দিকে তার ভাইয়ের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসলে তাকে তার নিজ বাড়ীতে হোম কোয়ারেন্টাইন রেখেই চিকিৎসা চলছিল। এর আগে তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। করোনাতে আক্রান্ত হওয়ার পর সে আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে পড়লে আজ ভোর পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে মেহেরপুর সদর থানার এএসআই নুরু ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যর একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মৃত ইউসুফ আলীর লাশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাযা ও দাফন কার্য করার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে জানান।

এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে তাক্ওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য মাওঃ তারেক মাহমুদ, মুত্তাছিম বিল্লাহ, তানভির তন্ময় ও আব্দুল হাদি মোটরসাইকেল যোগে সেখানে উপস্থিত হয়। সরকারী ভাবে পিপিই সহ সুরক্ষার জন্য সামগ্রী পরিহিত হয়ে সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে জোহরের পর করোনায় মৃত ইউসুফ আলীর বামন পাড়া কবর স্থানে জানাযা ও দাফন কার্য্য সমাপ্ত হয়। এপর্যন্ত তাক্ওয়া ফাউন্ডেশন মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা মিলে তারা ৮টি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যাক্তির জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেছে।

তাক্ওয়া ফাউন্ডেশনের মাওঃ তারেক মাহমুদ বলেন, করোনার এই দুর্যোগ কালে মুসলিম হিন্দু, খ্রিষ্ঠান যে কেউ হোক না কেন করোনা আক্রান্ত হয়ে অথবা করোনায় সংক্রমন নিয়ে মৃত বরণ করে, তাহলে কাউকে পাশে না পেলে, আমরা সর্বদা বিনা পারিশ্রমে প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের সাথে যোগাযোগ করার মোবাইল নম্বর ০১৭৫২-৫৩৫৯৫৩। অনেকে অনেক কথা বলে আমরা নাকি টাকার বিনিময়ে এই কাজ গুলো করছি। এটা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা । তিনি আরো বলেন, আমাদের সংগঠন থেকে প্রতিনিয়ত চুয়াডাঙ্গা জেলাতে করোনায় আক্রান্ত লক ডাউন পরিবারকে খাদ্য সমাগ্রী পৌছে দিচ্ছি। আমরা খুব শিঘ্রই মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলাতে অসহায় পরিবারের মাঝে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সার্মথ্য অনুযায়ী করোনার এই দুর্যোগ কালে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেব।

তিনি আরো বলেন, জরুরী ভাবে আমাদের যাতায়াতের জন্য সরকারী ভাবে কোন প্রকার একটি মাইক্রো অথবা এ্যাম্বুলেন্স সহায়তা প্রদান করলে করোনায় মৃত ব্যাক্তির দাফন সম্পন্ন করার জন্য সহজ হবে। কারণ আমরা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে অনেক সময় বৃষ্টির কারণে দেরী করে ফেলছি। এমনকি অনেক সময় ঝুকির মধ্যেও পড়তে হচ্ছে। দু’দিন আগেই আমরা করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যাক্তির দাফন সম্পন্ন করার জন্য মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার সময় সড়ক দূর্ঘটনায় কবলিত হই। এমতবস্থায় সরকারের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, বিষয়টি বিশেষ ভাবে সদয় দৃষ্টি রাখার জন্য।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More