মেহেরপুরে শশা ও বেগুনের মূল্য একলাফে বেড়ে আড়াইগুন
বাজারে শশার কেজি ৫০ টাকা আর বেগুন কেজি কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে
১৬১

মেহের আমজাদ, মেহেরপুর :  মেহেরপুরের বাজারের শশা ও বেগুনের দাম বেড়ে আড়াই গুনের বেশি হয়েছে। রমজানের শুরুতে বিভিন্ন বাজারে শশার কেজি ৫০ টাকা আর বেগুন কেজি কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এসব পন্যের দাম বৃদ্ধি করছে। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা হলে এসব জিনিষের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসবে বলে মনে করেন ক্রেতা সাধারণ ।
সবজি উৎপাদন খ্যাত জেলা মেহেরপুর। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার উৎপাদিত সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় রপ্তানী হয়। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে অঘোষিত লক ডাউন চলছে। এ মুহুর্তে এ জেলার উৎপাদিত সবজি আগের মত দেশের অন্যান্য জেলায় রপ্তানী হচ্ছে না। তারপরও রমজানে মেহেরপুরের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ এ দু’টি সবজির দাম এক লাফে আড়াই গুন হওয়াটা সঠিক বলে মনে করছেন না ক্রেতা সাধারণ।
ব্যাংক কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম বলেন, রমজান মাসে ইফতারিতে বেগুনী ও শশা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রত্যেক রোজাদারের কাছে প্রিয় হওয়ায় বেগুন ও শশার দাম বেশি হলেও বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। কৃষক ও খুচরা ব্যবসায়ীর মধ্যে এসব সবজি বেচা-কেনা হলে উভয় লাভবান হতেন। সাথে সাথে ক্রেতারাও স্বস্তি পেতেন বলেও মনে করেন তিনি।
মেহেরপুর হোটেল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা এক সপ্তাহে আগে ২০ টাকা কেজি দরে শশা ও ৩০ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি করেছি। এখন পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনছি বিধায় সামান্য লাভ রেখে শশা ৫০ টাকা ও বেগুন ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হোসেন আলী ও রাজিব শেখ বলেন, এ বছর মাঠে প্রচুর পরিমান শশা ও বেগুনের আবাদ হয়েছে। কিন্তু প্রচুর পরিমান শশা উৎপাদন হলেও গত সপ্তাহে মাঠে পাইকার খুব কম আসত আবার শশা খেত থেকে তুলে বাজারে নিলেও পাইকাররা বেশি দাম দিত না। এদিকে আবাদ বেশি হলেও বৃষ্টির কারণে বেগুনের ফলন কিছুটা কম ছিল। তারপরও আমরা আগের দামেই পাইকারদের কাছে বেগুন বিক্রি করছি।
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, মেহেরপুরের মাঠে এ বছর শশা ও বেগুন ভাল উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু কৃষকের ফসলের দাম নিয়ন্ত্রন করেন বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মর্জির উপর নির্ভর করে কৃষকের উৎপাদিত ফসলে লাভ কিংবা ক্ষতি।
মেহেরপুর জেলা ক্যাবের প্রেসিডেন্ট রফিকুল আলম বলেন, বিদেশে কোন দূর্যোগ এলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মূল্য সুলভ করে দেওয়া হয়। আমাদের দেশে জরুরী এ মুহুর্তেও খাদ্য শষ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। সবজি বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু কিছু দ্রব্যের আকাশ চূম্বিমূল্য সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তোলে। জরুরী বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More