ছাত্রলীগের সোনালী সন্তান হতভাগ্য পুলিশ অফিসার এসপি মাহবুব!!
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস আসলেই একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে জানতে চাই এসপি মাহবুব কেন উপেক্ষিত?
৯৫

একাত্তর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়।সেদিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন পুলিশ অফিসার মাহবুব উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে ১২ জন আনসার সদস্য। পুরো আয়োজন তদারকি করেন মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। স্বাধীনতার পর দুই সাহসী মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত হন। দুইজনই বাংলা মায়ের গর্বিত সন্তান।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকারের অধীনে কাজ শুরু করেন সিএসপি তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীরবিক্রম এবং মাহবুব উদ্দীন আহমদ, বীরবিক্রম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসেবে মাহবুব উদ্দীন আহমদ পার্সপোর্ট ইস্যু এবং ভিআইপিদের সরকারি অস্ত্রের লাইসেন্সের অনুমোদন দিতেন। হঠাৎ একদিন বঙ্গবন্ধু, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে মাহবুব উদ্দীনকে জরুরি তলব করেন। ষাটের দশকে তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমান শহীদুল্লাহ হলের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি মাহবুবকে বঙ্গবন্ধু ঢাকার এসপি হিসেবে যোগদান করতে বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব পদের চেয়ে ঢাকার এসপি পদটি নিচে। কিন্তু নেতা বলেছেন তাই দেরি না করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন অবিবাহিত মাহবুব উদ্দীন।তখন গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ মিলেই ছিলো ঢাকা জেলা পুলিশ। এতবড় জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিলো। এএসএস এবং পিজিআর তখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নেতৃত্ব দিতে হতো পুলিশকেই।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলেই বঙ্গবন্ধু নিজের সন্তানের মতই মাহবুব উদ্দীন আহমদকে বিশ্বাস করতেন। হঠাৎ কোনা প্রটোকল ছাড়াই শেখ মুজিব শুধু মাহবুব উদ্দীনকে নিয়ে রাতের ঢাকা দেখতে গোপনে বের হতেন। সেই ঘটনা আরেকদিন লিখবো।
১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মাহবুব উদ্দীন আহমদ বাকশালে যোগদান করেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিনেই এসপি মাহবুবকে গ্রেফতার করে নির্মম নির্যাতন করে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকেরা। জেলখানায় জাতীয় চারনেতার সেলের পাশের সেলেই রাখা হয় রাজবন্দী মাহবুব উদ্দীন আহমদকে। ১৯৭৮ সালে জেল থেকে বের হয়ে চাকরি ফিরে পাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। কিন্তু তার বন্ধু তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সরকারি চাকরিতে বহাল থাকেন।

উপায় না পেয়ে এসপি মাহবুব ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন মাহবুব উদ্দীন আহমদ, বীরবিক্রম। একানব্বই এবং ছিয়ানব্বইয়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার বন্ধু তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জ্বালানি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কালের গর্ভে হারিয়ে যান এসপি মাহবুব।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর আটজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনজন সাবেক সিএসপি অফিসার এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান এবং তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী টানা তিন মেয়াদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসক ডাঃ মোদাছছের ও শিক্ষক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ প্রথম মেয়াদ শেষেই বাদ পড়েছেন।

১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস আসলেই একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে জানতে চাই এসপি মাহবুব কেন উপেক্ষিত? তিনিও সিএসপি অফিসার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় বীর পুলিশের মধ্যে জীবন্ত এই কিংবদন্তি। তিনিতো ছাত্রলীগের সোনালী সন্তান, বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে কখনই বেইমানি করেননি।     – নাজমুল হোসেন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More